শিশুদের দাঁতের কিছু ত্রুটি সম্পূর্ণ বংশগত বা জিনগত (Genetic) কারণে হতে পারে। বাবা-মা বা পরিবারের পূর্বপুরুষদের এই সমস্যা থাকলে তা জিনবাহিত হয়ে শিশুর মধ্যে প্রকাশ পায়। নিচে বংশগত কারণে শিশুদের দাঁতের প্রধান সমস্যা ও প্রতিকার সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
বংশগত সমস্যাসমূহ
অ্যামেলোজেনেসিস ইমপারফেক্টা: এই ত্রুটিতে দাঁতের উপরিভাগের শক্ত আবরণ বা ‘এনামেল’ সঠিকভাবে গঠিত হয় না। ফলে শিশুর দাঁতের রঙ হলুদ বা বাদামী দেখায়, দাঁত খুব ভঙ্গুর হয় এবং অল্পতেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে তীব্র শিরশিরানি অনুভূতি হয়।
ডেন্টিনোজেনেসিস ইমপারফেক্টা: এতে দাঁতের ভেতরের স্তর বা ‘ডেন্টিন’ গঠনে সমস্যা দেখা দেয়। দাঁতগুলো দেখতে নীলাভ-ধূসর বা হলদে এবং কিছুটা স্বচ্ছ দেখায়। ভেতরের অংশ দুর্বল হওয়ায় দাঁতের উপরিভাগ দ্রুত ক্ষয়ে মূল কাঠামো নষ্ট হয়ে যায়।
হাইপোডনসিয়া (দাঁত অনুপস্থিতি): জন্মগতভাবেই মাড়িতে নির্দিষ্ট কিছু স্থায়ী দাঁতের কুঁড়ি অনুপস্থিত থাকে। ফলে দুধ দাঁত পড়ে যাওয়ার পর নির্দিষ্ট স্থানে আর নতুন দাঁত গজায় না, যা শিশুর খাবার চিবানো এবং কথা বলায় সমস্যা তৈরি করে।
আঁকাবাঁকা দাঁত (Malocclusion): চোয়ালের আকার এবং দাঁতের সাইজ বংশগতভাবে নির্ধারিত হয়। বাবার কাছ থেকে বড় দাঁত এবং মায়ের কাছ থেকে ছোট চোয়াল পেলে দাঁত সোজা হওয়ার পর্যাপ্ত জায়গা পায় না। ফলে দাঁত একটির ওপর আরেকটি উঠে আঁকাবাঁকা বা উঁচু-নিচু হয়ে যায়।
বংশগত মাড়ির রোগ: পরিবারে আক্রমণাত্মক মাড়ির রোগ (Aggressive Periodontitis) থাকার ইতিহাস থাকলে শিশুদের অল্প বয়সেই মাড়ি থেকে পুঁজ ও রক্ত পড়া এবং দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
প্রতিকার ও করণীয়
দ্রুত ডেন্টাল স্ক্রিনিং: পরিবারে বংশগত দাঁতের রোগ থাকলে শিশুর প্রথম দাঁত ওঠার পরপরই (৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে) অভিজ্ঞ পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্টের কাছে নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।
ফ্লোরাইড ও ক্রাউন থেরাপী: দুর্বল এনামেল বা ডেন্টিনের ক্ষেত্রে দাঁতকে ক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচাতে ফ্লোরাইড ট্রিটমেন্ট করা হয়। দাঁতের সুরক্ষায় এবং চিবানোর শক্তি বজায় রাখতে পরবর্তীতে বিশেষ ডেন্টাল ক্রাউন বা ক্যাপ বসানো হয়।
অর্থোডন্টিক চিকিৎসা (Braces): আঁকাবাঁকা বা উঁচু-নিচু দাঁতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সে (সাধারণত ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে) অর্থোডন্টিক স্ক্রিনিং করিয়ে ব্রেসেস (Braces) বা ক্লিপের মাধ্যমে দাঁত সোজা ও সুন্দর সারিবদ্ধ করা সম্ভব।
স্পেস মেইনটেইনার ও ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট: জন্মগতভাবে দাঁত অনুপস্থিত থাকলে পাশের দাঁত যাতে বাঁকা না হয় সেজন্য ‘স্পেস মেইনটেইনার’ ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে বয়সভেদে ব্রিজিং বা ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান দেওয়া হয়।
কঠোর ওরাল হাইজিন: বংশগতভাবে দাঁত দুর্বল হলে সাধারণ শিশুদের চেয়ে এদের দাঁতের যত্ন দ্বিগুণ করতে হবে। দিনে দুবার ফ্লোরাইডযুক্ত পেস্ট দিয়ে ব্রাশ, মাউথওয়াশ ব্যবহার এবং প্রতি ৬ মাস পর পর ডেন্টিস্টের ফলোআপে থাকা
বাধ্যতামূলক।





